সামিউল আজিম
কবিতা লেখেন। জন্ম পাবনা জেলায় ২০০২ খ্রিস্টাব্দে। বর্তমানে রাজবাড়ী সদরে বসবাস করছেন। এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।
সামিউল আজিম

সেই থেকে আমার ভীষণ জ্বর

বার পড়া হয়েছে
শেয়ার :

সামিউল আজিমের দুটি কবিতা: "সেই থেকে আমার ভীষণ জ্বর", "বিচ্ছিন্ন সত্তা"


সেই থেকে আমার ভীষণ জ্বর


চালের ফুঁটো থেকে বৃষ্টির ছাট আসছে, আক্ষেপে ভিজে যাচ্ছে অপ্রাপ্ত, অপুষ্টিতে ভেঙে যাওয়া বুকের সন্নিবেশিত হাড়ের স্তুপগুলো।
একটা, দুইটা, চারটা, গুনছি বসে বসে বৃষ্টির ফোঁটা, অবশেষে আটটা
আট নাম্বারটার সাথে এক চিমটি রক্তও প্রবেশ করলো ঘিলুতে, মহামহিম কোনো করুণা ছাড়া যেন ছুঁড়ে দিচ্ছেন ক্ষতবিক্ষত, সন্নিবেশিত ঠাট্টা।

রাতটা যেন আর কাটবে না
ভোর যেন আর আসবে না
কাল, বিকাল, মহাকাল সবই মিথ্যা
মিথ্যার আকাল পড়ছে আজকাল
রাতটা যেন আর কাটে না
ভোর কখনও আসে না

শেষ সিগ্যারেটের আগুন নিভিয়ে দিয়ে গেছে বৃষ্টি আর রক্তে মিশ্রিত ছাটে
ফুঁকো, দান্তে, দালি— সবার দেহাবশেষ ফালি ফালি করে কেটে বিছিয়ে রাখা হয়েছে আমার পায়ের সামনে;
বিশাল বিশাল বাতাসের স্রোত, ধ্বংসপ্রাপ্ত টিনের চালের যা অবশিষ্ট ছিলো তাও উড়িয়ে নিয়ে গেলো।

এবার মাথায় এসে পড়লো, মুসার লাঠি, নোহার কিস্তি, সোলেমানের আঙটি, আদমের পাঁজর, সিলভিয়ার আধ-খাওয়া গাজর, জিশুর রক্ত।
খুব দূরে—খুব দূরে, মৃদু মৃদু শুনতে পাচ্ছি কে যেন গান গাইছে, এই ঝড়েও পাখিরা জড় হচ্ছে তার গান শুনতে;
দাউদের কণ্ঠে কী জাদু ছিলো জানি না, আমিও হিপনোটাইজড পাখিদের মতো উড়তে শুরু করলাম শব্দের পিছু পিছু।

সেই থেকে আমার ভীষণ জ্বর।


বিচ্ছিন্ন সত্তা


১.

মস্তিষ্ক বলে কিছু অবশিষ্ট নেই
যা আছে, থকথকে কর্দমাক্ত ক্লেশা বিশেষ
যার আবরণীতে বীর্যের মোহাবিষ্ট দুঃর্গন্ধ

২.

আমার হৃৎপিণ্ড বলতে কিছু বাকি নেই
যা আছে, রাবারের তৈরি কারো কুৎসিত পাম্মারের আবেশ
যার ভাজে ভাজে বসবাস করে শুক্রকীট

৩.

আমার ফুসফুস বলে কিছু নেই
যা আছে শুধু ক্যান্সার কোষে গিজগিজ বায়ুথলিযুক্ত আমিষ
যার পরতে পরতে জমে আছে ঘন মেঘের মতো টার

৪.

আমার বৃক্কগুলো আজ কার?
শুধু শূন্যস্থান দেখি আমি বৃক্কের বদৌলে
টাকার মতো দেখতে, কাগজের আদৌলে।

৫.

কোথায় আমার যকৃত?
যার বদলে নজরে পড়ে ভারি কাঁচের ক্যামিকাল ট্যাংক
যার একটা অংশ খেলাপি ঋণ, একটা সরকারি ব্যাংক।

৬.

আমার মেরুদণ্ড বলে কি কিছু আছে?
থাকতে পারে, আমি ত দাঁড়িয়ে আছি ঠিক-ই
আবার জমিনও বিছানায় পরিণত হয় ঠিক-ই।

৭.

আমার নার্ভাস সিস্টেম গ্যালো কই?
এত ছুরিকাঘাত, এত দহন, এত মোচড় সব যন্ত্রণা গ্যালো কই?
আমার ফালি ফালি করে কাটা মেরুদণ্ড গ্যালো কই?

———-সমাপ্ত———-

ট্যাগসমূহ

অণুগল্প অনুবাদ ইতিহাস ঈদ সংখ্যা ২০২২ উপন্যাস সংক্ষেপ একালের গল্প কবিতা কলকাতার দিনগুলি কাজী নজরুল ইসলাম কাজী মহম্মদ আশরাফ কুড়ি লাইনের কবিতা সংখ্যা গণঅভ্যুত্থান সংখ্যা গল্প চিরায়ত গল্প ছোটগল্প জসীমউদ্দিন জীবনানন্দ দাশ জীবনের গল্প জয় গোস্বামী নীতিগল্প পলাশ মজুমদার পিন্টু রহমান প্রবন্ধ প্রেমের গল্প ফেলুদা সিরিজ বই বাংলা কবিতা বিখ্যাতদের গল্প বুক রিভিউ ব্যক্তিত্ব ভ্রমণ ভ্রমণ ডায়েরি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মাহির তাজওয়ার মিনহাজ শোভন মুভি রিভিউ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিশিরভেজা গল্প সংখ্যা শিশু-কিশোর গল্প সমকালীন কবিতা সমকালীন গল্প সাক্ষাৎকার সিনেমা সুকান্ত ভট্টাচার্য হাসির গল্প
magnifiercrossmenu