আদনান সহিদ
কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং পেশায় শিক্ষক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লা, বাংলাদেশে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে 'স্নাতক' এবং ইংরেজি সাহিত্যে মিডিয়া, ফিল্ম ও কালচারাল স্টাডিজ বিষয়সহ 'স্নাতকোত্তর' সম্পন্ন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবস্থায় সম্পাদনা করেছেন কবিতার মাসিক ভাঁজপত্র 'আমরা ক'জন অথবা একা'। প্রকাশিত গ্রন্থ : অনূদিত গল্প সংকলন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নির্বাচিত গল্প’ (বেহুলাবাংলা, ২০২০), ষোলো গল্পকারের গল্প সংকলন, ‘এলোমেলো ষোলো’ (বিবর্তন প্রকাশনী, ২০২০) এবং সম্মিলিত কাব্য সংকলন, ‘এলোমেলো ভাবনা (বিবর্তন প্রকাশনী, ২০১৯)‌ এবং সাহিত্য সংকলন, 'কথা ও কাব্য' (বিবর্তন প্রকাশনী, ২০২১)‌।
আদনান সহিদ

পুরস্কার

বার পড়া হয়েছে
শেয়ার :

মূল: জামাল ফায়িজ

ভাষান্তর : আদনান সহিদ


চাকরি জীবনের দ্বিতীয় বছরেই সে ‘শ্রেষ্ঠ চাকুরিজীবীর’ পুরস্কারটি অর্জন করলো। কিন্তু তার বিভাগের নতুন পরিচালক সেবারই প্রথম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন। মহাপরিচালক যখন পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন নতুন পরিচালক তখন দাঁড়িয়ে হাততালি দিলেন, তাঁর বিভাগের পক্ষে একটা বক্তৃতা দিলেন এবং জানালেন যে তাঁর বিভাগের একজন শ্রেষ্ঠ কর্মচারীই পুরস্কারটি পেয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিলেন যে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীকে তিনি বেতন বাড়িয়ে দেবেন এবং পরবর্তী বছরও এই পুরস্কারপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পদোন্নতি দেবেন।

২.

পরদিন সকালে কর্মচারীটি যখন সকলের সাথে সভাকক্ষে গেলো পরিচালক তাকে তাঁর পাশে বসতে ইঙ্গিত করলেন‌। কর্মচারীটি তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো যে সে তার অন্য সহকর্মীদের সাথে বসতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। পরিচালক যখন তাকে পুনরায় তাঁর পাশে বসতে আমন্ত্রণ জানালেন তখন কর্মচারীটি বিস্মিত হয়ে টেবিলে উপবিষ্ট তার বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য সভাসদদের দিকে তাকালো।

পরিচালক হালকা গলা খাঁকারি দিলেন এবং সবাই তাঁর দিকে মনোযোগ দিলো। তিনি পুনরায় পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীটির প্রশংসা করলেন এবং সকলকে তার মতো হতে চেষ্টা করতে বললেন। তিনি একটি কৌতুক বলে তার স্বাগত বক্তব্য শেষ করলেন যা শুনে হাসতে হাসতে সবার চোখে পানি বেরিয়ে গেলো এবং সবাই চেয়ার থেকে পড়ে গেলো ঠিক যেভাবে গাছের বেশ কিছু শুষ্ক পাতা বাতাসে ঝরে যায় কিংবা একটা হঠাৎ ভূমিকম্পে সবকিছু নড়ে ওঠে। কেবলমাত্র শ্রেষ্ঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীটিই ভদ্র ও গম্ভীর হয়ে বসে থেকে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

৩.

তিনদিন পর পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীটি পরিচালকের অফিসে একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে হাজির হলো।

সে তার পরিচালককে হাস্যোজ্জ্বল ভাবে বললো, ‘কম্পিউটার হলো একপ্রকার জাদু। আমার প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়িত হয়, প্রশাসন আরো সুসংগঠিত হবে। আমাদের আউটপুট আরো বাড়বে…’

‘ফাইলটি এখানে রেখে যাও। আমি পড়ে দেখবো।’ পরিচালক নীরবতা ভাঙলেন।

৪.

পরবর্তী বেশ কিছুদিন কর্মচারীটি পরিচালককে তার প্রকল্প প্রস্তাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই থাকলো। কিন্তু কোনো উত্তর পেলো না। বরং পরিচালক তাঁকে এড়িয়ে যেতে থাকলেন এবং তাঁর সহকারীর সাথে কথা বলতে বললেন।

৫.

এর পরবর্তী তিন মাস সে তাঁর পরিচালকের সাথে কেবলমাত্র বিশেষ অনুমতি নিয়েই দেখা করতে পারতো। আর পরিচালকও তাঁকে কোনো কিছুর জমা দেবার প্রয়োজন হলে তাঁর সহকারীর মাধ্যমেই জমা দিতে বলেছিলেন। সে এ ধরনের ব্যবহারে খুবই বিস্মিত হয়েছিলো‌। সে পরিচালকের সহকারীকে পরিচালকের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করলো। কিন্তু তার অনুরোধ প্রথমে মৌখিক এবং পরবর্তীতে লিখিতভাবে বাতিল করা হলো। তবুও সে জোরাজুরি করতেই থাকলো যে পরিচালকের সাথে তার দেখা করতেই হবে। এমন করে দিন অতিবাহিত হতে থাকলো।

একদিন সে একখণ্ড কাগজ পেলো এবং বিস্ফোরিত চোখে পড়লো, ‘আপনার এতদিনের অফিস সেবার জন্য ধন্যবাদ!’


This is an original content which is written by a DORPON author. Copying and publishing any part of the content is strictly prohibited.

ট্যাগসমূহ

magnifiercrossmenu